ভোলায় অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জেলার সাত উপজেলায় ভোটের নিরাপত্তায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও আনসারসহ ১০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল কোর্ট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট, জোরদার করা হয়েছে টহল কার্যক্রম। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভোলা–লক্ষ্মীপুর–বরিশাল মহাসড়কের ভোলা অংশের পান বাজার এলাকায় যৌথ বাহিনীর চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়।
ভোলা র্যাবের কমান্ডার রিফাত হাসান জানান, জেলার প্রতিটি উপজেলায় র্যাবের টহল টিম কাজ করছে। বিশেষ করে লঞ্চ ও ফেরিঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বাড়তি নজরদারি থাকবে।
জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ৫২৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন এক হাজার নৌবাহিনী সদস্য, ১৪০ জন বিজিবি, ৫৫ জন র্যাব সদস্য, ৩৬৬ জন কোস্টগার্ড, এক হাজার ৬৬৭ জন পুলিশ এবং ৭ হাজার ৯৪৫ জন আনসার সদস্য।
এদিকে দুর্গম এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে বিশেষ জলযান ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচনী এলাকায় পাঁচ থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বুধবার সকাল থেকে ভোটের বাক্স, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ শুরু হবে, যা পর্যায়ক্রমে ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
চারটি সংসদীয় আসনে জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ লাখের বেশি। এসব আসনে ১০টি রাজনৈতিক দলের ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।