জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরি-মুকরি এলাকায় শুরু হয়েছে লোকালি লেড অ্যাডাপটেশন প্ল্যান (এলএলএপি) ডেভেলপমেন্ট পরিকল্পনা প্রনয়ণ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী কর্মশালা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) চর কুকরি-মুকরিতে অবস্থিত অ্যাডাপটেশন লার্নিং সেন্টার (এএলসি)-এর কনফারেন্স কক্ষে কর্মশালাটির উদ্বোধন করা হয়। কর্মশালাটি চলবে আগামী ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।
গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর আয়োজনে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর সহযোগিতায় এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কর্মশালার মূল লক্ষ্য হলো—জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনের আলোকে একটি কার্যকর স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপির জাতীয় সমন্বয়কারী ড. মো. মোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মো. মোস্তফা কামাল। কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন জিজেইউএস-এর অতিরিক্ত পরিচালক ডা. খলিলুর রহমান।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আফজাল হোসেন।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত সবচেয়ে বেশি পড়ছে উপকূল ও চরাঞ্চলের মানুষের ওপর। এসব এলাকার মানুষের স্থানীয় জ্ঞান, বাস্তবতা ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব না দিলে কোনো অভিযোজন পরিকল্পনাই টেকসই হবে না। তাই স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।
কর্মশালায় স্থানীয় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, নারী প্রতিনিধি এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু ঝুঁকি, জীবিকায় এর প্রভাব, অভিযোজন কৌশল এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে দলগত আলোচনায় অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ইউএনডিপির এসজিপি প্রোগ্রামের আওতায় পরিচালিত এই উদ্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।