ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজ বুধবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের প্রচার–প্রচারণা শুরু হচ্ছে। ফলে আজ থেকেই নির্বাচনী উত্তাপে মুখর হয়ে উঠছে পুরো জেলা।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ জাসদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি (জাপা), ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), আমজনতার দল, জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ মোট ১২টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতীক পেয়েছেন।
আসনভিত্তিক হিসেবে ভোলা–১ আসনে ৭ জন, ভোলা–২ আসনে ৬ জন, ভোলা–৩ আসনে ৫ জন এবং ভোলা–৪ আসনে ৬ জন বৈধ প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
ভোলা–১ (সদর) আসন
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—
বিএনপি জোটের প্রার্থী আন্দালিব রহমান পার্থ (গরুর গাড়ি), জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ওবায়েদুর রহমান (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মো. আকবর হোসেন (লাঙ্গল), গণঅধিকার পরিষদের আইনুর রহমান জুয়েল মিয়া (ট্রাক), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মিজানুর রহমান (আম) এবং ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আশরাফ আলী (চেয়ার)।
ভোলা–২ (দৌলতখান–বোরহানউদ্দিন) আসন
এ আসনে প্রার্থীরা হলেন—
বিএনপির মো. হাফিজ ইব্রাহিম (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফজলুল করিম (দাঁড়িপাল্লা), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মোকফার উদ্দিন চৌধুরী (ছাতা), আমজনতার দলের মো. আলাউদ্দিন (প্রজাপতি), জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম রিটু (লাঙ্গল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন খন্দকার (মোটরসাইকেল)।
ভোলা–৩ (লালমোহন–তজুমদ্দিন) আসন
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—
বিএনপির মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম (ধানের শীষ), গণঅধিকার পরিষদের মো. আবু তৈয়ব (ট্রাক), জাতীয় পার্টির মো. কামাল উদ্দিন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মোসলেহ উদ্দিন (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. নিজামুল হক (ফুলকপি)।
ভোলা–৪ (চরফ্যাশন–মনপুরা) আসন
এ আসনে মাঠে রয়েছেন—
বিএনপির নুরুল ইসলাম নয়ন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মো. মিজানুর রহমান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবুল মোকাররম মো. কামাল উদ্দিন (হাতপাখা), জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আবুল কালাম (সিংহ) এবং আমজনতার দলের জালাল উদ্দিন রুমি (প্রজাপতি)।
ভোলা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই আল হাদি জানান, এবারের নির্বাচনে ভোলা জেলার চারটি আসনে মোট ১৬ লাখ ৯২ হাজার ৬৮৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ লাখ ৭৯ হাজার ৮৯৭ জন এবং নারী ভোটার ৮ লাখ ১২ হাজার ৭৭৫ জন।
তিনি আরও জানান, ভোলার চারটি সংসদীয় আসনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন ১৪ হাজার ৭৩০ জন ভোটার। জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৫২৫টি এবং ভোটকক্ষ ৩ হাজার ৫৩০টি। নতুন ভোটারের সংখ্যা ৯৫ হাজার ১৫৭ জন।
ভোলা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।