ভোলার মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জলদস্যুদের হাতে অপহৃত চার জেলে মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্তি পেয়েছেন। স্বজনদের উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া মাঝেরচর সংলগ্ন একটি চরে এসে ওঠেন তাঁরা। পরে নৌপুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন—বোরহানউদ্দিন উপজেলার জয়া ইউনিয়নের গঙ্গাপুর গ্রামের সিদ্দিক মাতাব্বরের ছেলে মহিউদ্দিন মাতাব্বর (৪০), টবগী ইউনিয়নের দালালপুর গ্রামের দ্বীন ইসলামের ছেলে মো. সবুজ (২২), একই গ্রামের মোতাহারের ছেলে বজলু মাঝি (৩৮) এবং কামাল মাঝির ছেলে শরীফ (৩০)।
ভুক্তভোগী জেলেদের স্বজনরা জানান, মুক্তির জন্য জলদস্যুরা নগদ ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা দাবি করে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধের পর জেলেদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুক্তি পাওয়া জেলে মহিউদ্দিন মাতাব্বর ও শরীফ বলেন, গত ১১ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় ট্রলারযোগে একদল সশস্ত্র জলদস্যু এসে তাদের জিম্মি করে। চোখ বেঁধে তাঁদের লক্ষ্মীপুর সংলগ্ন একটি চরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মুক্তিপণের জন্য মারধর করা হয়। জলদস্যুদের হাতে অস্ত্র ছিল বলেও জানান তাঁরা।
তাঁরা আরও বলেন, সোমবার রাত ৯টার দিকে জলদস্যুরা আবার ট্রলারে তুলে নদীপথে নিয়ে যেতে শুরু করে। একপর্যায়ে নদীতে একটি অচেনা স্পিডবোট দেখতে পেয়ে জলদস্যুরা ভয়ে ট্রলার তীরে ঠেকিয়ে পালিয়ে যায়। তখন জেলেরা ট্রলার থেকে লাফ দিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন। তবে জলদস্যুদের কাউকে চিনতে পারেননি বলে জানান তাঁরা।
বোরহানউদ্দিন নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনাতন চন্দ্র সরকার বলেন, অপহরণের খবর পেয়ে জেলেদের মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে চরে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জলদস্যুরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এখনো তাদের শনাক্ত করা যায়নি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলা হলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপকূলীয় নদীপথে জলদস্যুতা আবার বাড়ছে বলে স্থানীয় জেলেরা অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, নিয়মিত টহল ও দ্রুত অভিযান জোরদার না হলে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।