আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সাংবাদিকেরা ভোটকেন্দ্রে ১০ মিনিটের বেশি অবস্থান করতে পারবেন না। ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষে প্রবেশ, নির্বাচনী এজেন্ট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া এবং সরাসরি সম্প্রচারও নিষিদ্ধ থাকবে। তবে ভোটকেন্দ্রের ছবি তোলা যাবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব বিধিনিষেধ কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন বরিশালের নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) ফারজানা ইসলাম।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল পুলিশ লাইনসের গ্র্যাটিটিউট হলরুমে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রথম নারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন।
ফারজানা ইসলাম বলেন, সাংবাদিকেরা নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, গত ৩০ নভেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বরিশাল জেলায় মোট ৬১৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের ২০১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ভোট হবে দিনে এবং ভোটার নিজেই তাঁর ভোট দেবেন। ভোটাররা নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। পুলিশ প্রশাসন ভোটার, প্রার্থী ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। আইন ভঙ্গকারীর ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না—ব্যক্তি বা দল পরিচয় যাই হোক না কেন।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, বিভাগজুড়ে ‘ডেভিল হান্ট’ অপারেশন অব্যাহত রয়েছে। যৌথ বাহিনীও মাঠে কাজ শুরু করবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে এবং আনসার, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, মহানগরীর ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা সদস্যদের শরীরে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ সংযুক্ত থাকবে। এতে মাঠপর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে বরিশালে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করা যাবে।