ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রেক্ষাপটে ভিন্ন দুই অবস্থান থেকে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নুরুল হক নুর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পৃথক মতবিনিময় সভায় দুজনই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে স্থানীয় ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, অতীতে বিএনপির সঙ্গে একই ব্যানারে রাজপথের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার রাজনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই বিএনপি পটুয়াখালী-৩ আসনে তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে এই আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুরোধ করেন।
নুর বলেন, শুধু বিএনপি বা গণঅধিকার পরিষদের ভোটে নয়, সব দলের ভোটারদের সমর্থন পেলেই বিজয় সম্ভব। জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি ঢাকা থেকে নির্বাচন না করে দশমিনা–গলাচিপার মানুষের কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা যদি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাস করেন, তাহলে তারেক রহমানের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন। তিনি দাবি করেন, তারেক রহমান তাকে উদ্দেশ করে বলেছেন—“আপনাকে জিতিয়ে আনা আমার চিন্তা।”
অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন ঢাকায় আয়োজিত পৃথক মতবিনিময় সভায় বলেন, দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দশমিনা–গলাচিপায় দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার পর নানা রাজনৈতিক চাপ ও অপপ্রচারের মুখে পড়তে হয়েছে।
হাসান মামুন তার বক্তব্যে বলেন, তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে তাকে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি ভোটের অধিকার ও রাজনৈতিক সাহসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ভোটারদের ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা থাকতে হবে এবং ভয় নয়, সাহসই গণতন্ত্রের ভিত্তি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অর্থ বা আনুষ্ঠানিক সুবিধার জন্য নয়, দশমিনা–গলাচিপার মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের লক্ষ্যেই তিনি মাঠে রয়েছেন। নিজেকে তিনি ‘সব দলের প্রার্থী’ হিসেবে তুলে ধরেন।
পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর এই সমান্তরাল তৎপরতা আগামী নির্বাচনে ভোটের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা চলছে।