ভবন ও পরিবহন খাতে দূষণ কমাতে পর্যাপ্ত অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৫ সালে জার্মানির গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন খুব সীমিত মাত্রায় কমেছে। জ্বালানি গবেষণা সংস্থা আগোরা এনার্জিভেন্ডে জানিয়েছে, সামগ্রিক জলবায়ু ভারসাম্যে এই দুই খাতের দুর্বলতা স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে।
রয়টার্সের বরাতে আগোরা এনার্জিভেন্ডে জানায়, ২০২৫ সালে জার্মানির মোট কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন দাঁড়িয়েছে ৬৪০ মিলিয়ন টনে। এটি আগের বছরের তুলনায় ১.৫ শতাংশ বা প্রায় ৯ মিলিয়ন টন কম। যদিও দেশটি ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত জাতীয় বার্ষিক নির্গমন লক্ষ্য পূরণ করেছে, তবে এই হ্রাস ২০২৪ সালে অর্জিত নির্গমন কমানোর পরিমাণের অর্ধেকেরও কম।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নির্গমন কমার পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, দীর্ঘমেয়াদি দুর্বল চাহিদা ও বৈশ্বিক বাজারের চাপের কারণে জ্বালানি-নির্ভর শিল্প উৎপাদন কমে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি।
আগোরা এনার্জিভেন্ডে জার্মানির পরিচালক জুলিয়া ব্লেসিয়াস বলেন, “২০২৫ সালেও জার্মানির জ্বালানি রূপান্তরের মেরুদণ্ড হিসেবে বায়ু ও সৌরশক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “এ পর্যন্ত নির্গমন কমানোর প্রধান চালিকাশক্তি বিদ্যুৎ খাত হলেও, পরিবহন ও ভবন খাতে জলবায়ুবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তরের ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে একা বিদ্যুৎ খাত দিয়ে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।”
আগোরার প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভবন খাতে নির্গমন আগের বছরের তুলনায় ৩.২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে পরিবহন খাতে নির্গমন বেড়েছে ১.৪ শতাংশ। এই প্রবণতা জার্মানির সামগ্রিক নির্গমন হ্রাসের গতি মন্থর করে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।