৫০তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫১ জন চাকরিপ্রার্থী। এই সংখ্যা বিশ্বের অন্তত ২২টি স্বাধীন দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি, যা সরকারি চাকরির প্রতি তরুণদের তীব্র আগ্রহ এবং প্রতিযোগিতার গভীরতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
জনসংখ্যা বিষয়ক আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ১৯৫টি স্বাধীন দেশ রয়েছে। এর মধ্যে জনসংখ্যার দিক থেকে ১৭৪তম অবস্থানে থাকা বারবাডোজের জনসংখ্যা ২ লাখ ৮২ হাজার ৬২৩ জন। আর সর্বনিম্ন জনসংখ্যার দেশ হলি সি-তে বাস করেন মাত্র ৫০১ জন। এসব দেশের তুলনায় ৫০তম বিসিএসে আবেদনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৫০তম বিসিএসে ক্যাডার পদের সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫টি এবং নন-ক্যাডার পদের সংখ্যা ৩৯৫টি। সব মিলিয়ে এই বিসিএসের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ১৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এবারের বিসিএসে কয়েকটি নতুন পদ যুক্ত হওয়ায় আগ্রহ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার (এমসিকিউ) নম্বর বণ্টন পদ্ধতিতেও আনা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। মোট নম্বর অপরিবর্তিত থাকলেও কয়েকটি বিষয়ে নম্বর কমানো ও বাড়ানো হয়েছে।
নতুন নম্বর বণ্টন অনুযায়ী- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য থেকে ৫ নম্বর কমিয়ে করা হয়েছে ৩০, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যেও কমে হয়েছে ৩০ এবং বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে কমে দাঁড়িয়েছে ২৫। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ৫ নম্বর বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৫, গাণিতিক যুক্তিতে বাড়িয়ে ২০ এবং নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনে নম্বর বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৫।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবেদনকারীর এই বিপুল সংখ্যা একদিকে যেমন বিসিএস পরীক্ষাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে, অন্যদিকে তা দেশের চাকরি বাজারে চাপ ও তরুণদের কর্মসংস্থানের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরছে।