ভোলা জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসা মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে হাসপাতালের ভেতর ও আশপাশের চরম নোংরা পরিবেশের কারণে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতাল চত্বরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আবর্জনা, প্লাস্টিক ও খাদ্যবর্জ্য। ওয়ার্ড, করিডোর ও প্রবেশপথে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো লক্ষণ নেই। ডাস্টবিনগুলো উপচে পড়ছে, কোথাও কোথাও জমে আছে নোংরা পানি। এসব কারণে পুরো হাসপাতালজুড়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, যা রোগী ও স্বজনদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে বর্তমানে আটজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী কর্মরত থাকলেও তাদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণে পরিবেশের এই অবনতি ঘটেছে। নিয়মিত তদারকির অভাব থাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
রোগীর স্বজন পারভীন বেগম বলেন, “এভাবে নোংরা পরিবেশে রোগী রাখা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আমার মা অসুস্থ, বাধ্য হয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছি। কিন্তু পরিবেশ এতটাই খারাপ যে সবাই কষ্টে আছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা তামজিদ আহমেদ সামি বলেন, “পরিচ্ছন্নতা কর্মী থাকার পরও যদি হাসপাতালের এমন অবস্থা হয়, তাহলে দায়ভার কার? প্রতিদিন রোগীরা সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছে। এটা একেবারেই অমানবিক।”
স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ শুধু রোগীদের নয়, স্বজনদের দৈনন্দিন জীবনকেও দুর্বিষহ করে তুলছে। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ কবির সোহেল বলেন, “হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে আরও তদারকি ও জনবল প্রয়োজন। খুব শিগগিরই পরিবেশ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রোগীরা যেন নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসা পায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।”
তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, শুধু আশ্বাসে সমস্যার সমাধান হবে না। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত না হলে এই অবহেলা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। মনপুরাবাসীর দাবি—পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন নিশ্চিত করা, হাসপাতালের ভেতর ও চারপাশে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি।