ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধের অবসান চান তিনি, তবে যেকোনো মূল্যে নয়। নতুন বছরের ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এমন কোনো “দুর্বল” শান্তিচুক্তিতে তিনি সই করবেন না, যা কেবল যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করবে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বুধবার গভীর রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ২১ মিনিটের নতুন বছরের ভাষণে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, প্রায় চার বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনের জনগণ ক্লান্ত, তবে আত্মসমর্পণে তারা প্রস্তুত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধের সময়কাল অনেক ইউক্রেনীয় শহরের ওপর নাৎসি জার্মানির দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন দখলের চেয়েও দীর্ঘ।
নিজের দপ্তরে বসে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, “ইউক্রেন কী চায়? শান্তি? হ্যাঁ। যেকোনো মূল্যে? না। আমরা যুদ্ধের শেষ চাই, কিন্তু ইউক্রেনের শেষ নয়।” তিনি আরও বলেন, “আমরা কি ক্লান্ত? খুব। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা হাল ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। যারা তা ভাবছে, তারা গভীরভাবে ভুল করছে।”
জেলেনস্কির ভাষায়, দুর্বল কোনো চুক্তিতে দেওয়া স্বাক্ষর “শুধু যুদ্ধকেই আরও উসকে দেয়”। তিনি বলেন, “আমার স্বাক্ষর থাকবে একটি শক্ত চুক্তির ওপর। এখন প্রতিটি বৈঠক, প্রতিটি ফোনালাপ, প্রতিটি সিদ্ধান্তের লক্ষ্য একটাই—দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই শান্তি নিশ্চিত করা, একদিন বা কয়েক সপ্তাহের জন্য নয়, বরং বহু বছরের জন্য।”
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা কূটনৈতিক তৎপরতায় একটি শান্তিচুক্তি প্রায় প্রস্তুত। গত সপ্তাহান্তে ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। জেলেনস্কির ভাষায়, “শান্তিচুক্তির ৯০ শতাংশ প্রস্তুত, বাকি ১০ শতাংশই সবকিছু নির্ধারণ করবে—শান্তির ভবিষ্যৎ, ইউক্রেন ও ইউরোপের ভাগ্য এবং মানুষের জীবনযাত্রা।”
চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পথে প্রধান বাধা হিসেবে উঠে এসেছে ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন। বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের প্রায় ১৯ শতাংশ এলাকা দখলে রেখেছে। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চান, ইউক্রেন পূর্ব দোনবাস অঞ্চলের আরও কিছু এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করুক, যেগুলো রুশ বাহিনী এখনো দখল করতে পারেনি।
অন্যদিকে কিয়েভ বর্তমান যুদ্ধরেখা অনুযায়ী পরিস্থিতি ‘স্থির’ রাখার পক্ষে। জেলেনস্কি দোনবাস থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের রুশ দাবিকে “প্রতারণা” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “এখনও কি কেউ তাদের বিশ্বাস করে? দুর্ভাগ্যজনকভাবে, হ্যাঁ। কারণ অনেক সময় সত্যকে এড়িয়ে যাওয়া হয় এবং সেটাকেই কূটনীতি বলা হয়, যখন বাস্তবে তা কেবল ব্যবসায়িক স্যুটে মোড়া মিথ্যা।”