চীনের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির পথে রাখতে ২০২৬ সালে আরও সক্রিয় ম্যাক্রো অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর চীন সরকারের নির্ধারিত প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণ করতে যাচ্ছে দেশটি।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির বরাতে রয়টার্স জানায়, বেইজিংয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আয়োজিত নববর্ষের চা-সম্ভাষণ অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সেখানে তিনি বলেন, ২০২৫ সালে চীনের অর্থনীতির আকার প্রায় ১৪০ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে (প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার) পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শি জিনপিং বলেন, “আমাদের দেশের অর্থনীতি চাপের মধ্যেও এগিয়ে যাবে এবং এতে শক্তিশালী সহনশীলতা ও প্রাণশক্তি প্রকাশ পাবে।” তিনি আরও জানান, সরকার কার্যকর গুণগত উন্নয়নের পাশাপাশি যুক্তিসঙ্গত পরিমাণগত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কাজ করবে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেবে।
সরকারি লক্ষ্য অনুযায়ী, ভোক্তা ব্যয় দুর্বল থাকা, দীর্ঘস্থায়ী মুদ্রাস্ফীতি চাপ এবং রিয়েল এস্টেট খাতের চলমান সংকট সত্ত্বেও ২০২৫ সালে চীনের অর্থনীতি প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বছরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়েছে।
শি জিনপিংয়ের বক্তব্য সাম্প্রতিক সরকারি অঙ্গীকারকে আরও জোরালো করে, যেখানে জনগণের আয় বৃদ্ধি, ভোগব্যয় উৎসাহিত করা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার কথা বলা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ ট্রেজারি বন্ডের আয় থেকে ৬২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউয়ান স্থানীয় সরকারগুলোকে বরাদ্দ দিয়েছে, যাতে আগামী বছর ভোক্তা পণ্য বিনিময় (ট্রেড-ইন) কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা যায়।
এদিকে, চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন (রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা সংস্থা) ২০২৬ সালের জন্য প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছে। এতে কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে প্রায় ২৯৫ বিলিয়ন ইউয়ান ব্যয়ে দুটি বড় নির্মাণ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করা।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বেইজিং অভ্যন্তরীণ চাহিদা জোরদার করে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে।