২০২৬ সালে চীনে অবস্থিত কারখানাগুলোতে চিপ উৎপাদন সরঞ্জাম পাঠানোর জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স ও এসকে হাইনিক্সকে বার্ষিক লাইসেন্স দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার দুই বড় চিপ নির্মাতার জন্য স্বস্তির খবর। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পূর্বে দেওয়া লাইসেন্স ছাড় প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এক সূত্র জানায়, চীনে চিপ উৎপাদন সরঞ্জাম রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখন বার্ষিক অনুমোদন ব্যবস্থায় যাচ্ছে।
এর আগে স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স এবং তাইওয়ানের টিএসএমসি যুক্তরাষ্ট্রের চিপ-সংক্রান্ত কঠোর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা থেকে বিশেষ ছাড় পেয়ে আসছিল। এই সুবিধা ‘ভ্যালিডেটেড এন্ড ইউজার’ মর্যাদা নামে পরিচিত। তবে এই মর্যাদার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩১ ডিসেম্বর। ফলে এর পর থেকে চীনে তাদের কারখানায় মার্কিন চিপ উৎপাদন সরঞ্জাম পাঠাতে হলে আলাদা করে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি লাইসেন্স নিতে হবে।
স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। টিএসএমসিও রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও অফিস সময়ের বাইরে থাকায় কোনো মন্তব্য করেনি।
চীনের উন্নত মার্কিন প্রযুক্তিতে প্রবেশ সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা নতুন করে পর্যালোচনা করছে। প্রশাসনের মতে, আগের সরকার আমলে এসব নিয়ম তুলনামূলকভাবে শিথিল ছিল।
বিশ্বের বৃহত্তম মেমোরি চিপ নির্মাতা স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স এবং দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এসকে হাইনিক্স—উভয়ের জন্যই চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র। বিশেষ করে প্রচলিত মেমোরি চিপ উৎপাদনে চীনের ভূমিকা বড়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টারের চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় এসব চিপের দাম সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।