মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ১এমডিবি কেলেঙ্কারি-সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি মামলায় গত সপ্তাহে দেওয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। মামলায় তাঁকে অতিরিক্ত ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ৭২ বছর বয়সী নাজিব রাজাক ২০২২ সাল থেকে কারাবন্দি। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর সহ-প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রায়ত্ত তহবিল ১মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদ (১এমডিবি) থেকে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মসাত হওয়া অর্থের এক বিলিয়নের বেশি ডলার নাজিব-সংশ্লিষ্ট হিসাবে পৌঁছেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। নাজিব এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।
গত ২৬ ডিসেম্বর আদালত নাজিবকে ক্ষমতার অপব্যবহারের চারটি অভিযোগ এবং অর্থপাচারের ২১টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালতের রায় অনুযায়ী, তিনি অবৈধভাবে ১এমডিবি থেকে উৎসারিত প্রায় ২.৩ বিলিয়ন রিঙ্গিত (প্রায় ৫৬৭.৯ মিলিয়ন ডলার) গ্রহণ করেছিলেন। এটি নাজিবের বিরুদ্ধে পরিচালিত সবচেয়ে বড় বিচার বলে বিবেচিত হচ্ছে।
রায়ে নাজিবকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড অঙ্কের জরিমানা করা হয়। আদালত নির্দেশ দেন, তাঁর বর্তমান ছয় বছরের কারাদণ্ড ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত এই সাজা কার্যকর হবে। তবে ভালো আচরণের ক্ষেত্রে সাজা এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
নাজিবের আইনজীবী মুহাম্মদ ফারহান শাফি সংক্ষিপ্ত এক বার্তায় নিশ্চিত করেছেন যে সোমবার রাতে রায় ও সাজা—উভয়ের বিরুদ্ধেই আপিল দায়ের করা হয়েছে।
এ ছাড়া চলতি মাসে নাজিবের বাকি কারাদণ্ড গৃহবন্দি হিসেবে ভোগ করার আবেদন আদালত নাকচ করলে, সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও তিনি আপিল করেছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এই দুই আদালতের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের ভেতরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। নাজিবের দল ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও)-এর কয়েকজন নেতা রায় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
২০২২ সালের নির্বাচনে ইউএমএনও আনোয়ারের বিরুদ্ধে প্রচার চালালেও ঝুলন্ত পার্লামেন্টের পর সরকার গঠনে তাঁর জোটে যোগ দেয়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সবাইকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত ‘পূর্ণ ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সঙ্গে’ গ্রহণ করা উচিত।