থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়া শনিবার একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে তীব্র সীমান্ত সংঘর্ষের অবসান ঘটিয়েছে। চুক্তি অনুসারে, দুপুর ১২টা (জিএমটি ০৫০০) থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং উভয় পক্ষ বর্তমান সৈন্য মোতায়েন বজায় রাখবে।
থাই প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথথাফন নাকফানিত এবং কম্বোডিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রী তিয়া সেইহা স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “উভয় পক্ষ বর্তমান সৈন্য মোতায়েন বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে এবং কোনো অতিরিক্ত চলাচল করবে না।” বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো সৈন্য বৃদ্ধি উত্তেজনা বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রচেষ্টাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে। এই বিবৃতি কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে।
এই চুক্তি ২০ দিনের সংঘর্ষের অবসান ঘটিয়েছে, যাতে কমপক্ষে ১০১ জন নিহত এবং উভয় পক্ষে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সংঘর্ষে ফাইটার জেটের অভিযান, রকেট এবং আর্টিলারি বিনিময় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সংঘর্ষের পুনরুদ্ধার ডিসেম্বরের শুরুতে ঘটে, যখন জুলাই মাসের একটি পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। সেই যুদ্ধবিরতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তায় মধ্যস্থতা করা হয়েছিল এবং জুলাইয়ের পাঁচ দিনের সংঘর্ষের অবসান ঘটিয়েছিল।
এই দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ প্রাচীন মন্দির এলাকা, বিশেষ করে প্রিয়াহ ভিহিয়ার মন্দিরকে কেন্দ্র করে, যা ঔপনিবেশিক যুগের সীমানা নির্ধারণ থেকে উদ্ভূত। উভয় দেশই একে অপরকে আগ্রাসনের জন্য দায়ী করেছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের উপর হামলার অভিযোগ করেছে।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও, উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থা পুনর্নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।