জীবিকার তাগিদে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ভোলার লালমোহন উপজেলার ১৩ জেলে ১৭ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এই সময় পরিবারগুলোতে চলছে আহাজারি, যখন নিখোঁজ জেলেদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী দ্রুত হেলিকপ্টার মাধ্যমে সাগরে অনুসন্ধানের দাবি জানাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের জানানো মতে, ১০ নভেম্বর এই জেলেরা বাড়ি থেকে রওনা হয়ে চরফ্যাশনের সামরাজ ঘাটে পৌঁছান। পরদিন ১১ নভেম্বর তারা "মায়ের দোয়া" নামের একটি ট্রলারে চড়ে সাগরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সাধারণত সাগরে ৪-৫ দিন থাকার অভ্যাস থাকায় তারা সেই পরিমাণ খাবার নিয়ে যান। তবে এগারো তারিখের ৩-৪ দিন পর অর্থাৎ ১৪-১৫ নভেম্বরের দিকে পরিবারের সাথে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
প্রথমে পরিবারগুলো মনে করেছিল মোবাইল ফোন বন্ধ থাকার বা ফিরতে সময় লাগার কারণে যোগাযোগ হচ্ছে না। কিন্তু কয়েক দিন পর অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখে তারা বুঝতে পারেন কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরপর তারা সাধারণ ডায়েরি করে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কাছে সহায়তা চাইছেন।
নিখোঁজ ১৩ জনের মধ্যে রয়েছেন ধলিকানগর ইউনিয়নের মোঃ মাকসুদুর রহমান, মেঃ নাছির, মোঃ ফারুক, মোঃ শামিম, মোঃ সজীব, মোঃ মাকসুদ, মোঃ আলম, মোঃ জাহাঙ্গীর, মোঃ খোকন, মোঃ সাব্বির, মোঃ হেলাল, মোঃ ফারুক ও আবদুল মালেক।
পরিবারগুলোতে দুঃখের ছায়া নেমে এসেছে। হেলাল সাগর থেকে ফিরে স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে আসার কথা বলে গিয়েছিলেন। খোকনের স্ত্রী সন্তান সম্ভাবনা নিয়ে আছেন, আর সদ্য বিবাহিত সাব্বিরের স্ত্রী নাওয়া-খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এক পরিবারে মানসিক প্রতিবন্ধী সন্তান বাবার অনুপস্থিতি বুঝতে পারছেনা।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহ আজিজ বলেন, "নিখোঁজদের খুঁজে পেতে নৌবাহিনী পক্ষ থেকে অনুসন্ধানী কার্যক্রম চালু রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"
তবে নিখোঁজদের স্বজন ও এলাকাবাসী মনে করছেন, অনুসন্ধান যথেষ্ট দ্রুতগতির নয়। তারা অতিদ্রুত হেলিকপ্টারে সাগর ও ভারতের সাগর সীমানায় অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, জীবিত হউক বা মৃত হউক, তারা তাদের প্রিয়জনদের এক নজর দেখতে চান।
পরিবারগুলোর আর্থিক সংকটও গভীর হয়ে উঠছে, কারণ এই ১৩ জন ছিলেন তাদের একমাত্র উপার্জনকারী। সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা এখনো ফেরেননি, আর তাদের ভাগ্য জানার অপেক্ষায় পরিবারগুলো হতাশায় ভুগছে।