অক্টোবরে ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদন কোভিড-১৯ মহামারির পর সবচেয়ে বড় পতন দেখেছে — বছওয়ারি হিসেবে ৬% কমে ১৪২.৪৫ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh)। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও শিল্প খাতে দুর্বল কার্যক্রম বিদ্যুৎ চাহিদা কমিয়েছে, বিশেষ করে শীতলীকরণের প্রয়োজনীয়তা হ্রাসের কারণে, জানায় রয়টার্সের সরকারি তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ।
ফেডারেল গ্রিড নিয়ন্ত্রক Grid-India-র তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে গৃহস্থালি ও শিল্পখাতে বিদ্যুৎ চাহিদা হ্রাস পেয়েছে।
ইন্ডিয়া রেটিংস অ্যান্ড রিসার্চের সহযোগী পরিচালক ভানু পাতনি বলেন, “গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে অব্যাহত বৃষ্টিপাত চাহিদা অনেক কমিয়েছে।”
অন্যদিকে অরোরা এনার্জি ইন্ডিয়ার প্রধান দেবব্রত ঘোষ জানান, “অক্টোবরে বড় উৎসবগুলো থাকায় অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল, যা শিল্প বিদ্যুৎ ব্যবহারে বড় ধস নামায়।”
বিদ্যুৎ ব্যবহারে এই মন্থরতা পুরো অর্থনীতির দুর্বল গতিশীলতার প্রতিফলন, যেখানে প্রবৃদ্ধি কমছে এবং অতিবৃষ্টি ঠান্ডা রাখার প্রয়োজন কমিয়ে দিয়েছে।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বোচ্চ পতন:
অক্টোবরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বছওয়ারি ১৩.২% হ্রাস পেয়ে ৯৮.৩৮ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টায় নেমেছে — যা জুন ২০২০-এর পর সর্বনিম্ন।
ভারতের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৭৫% আসে কয়লা থেকে। কিন্তু চলতি বছরে ১০ মাসের মধ্যে ৬ মাসেই কয়লাভিত্তিক উৎপাদন কমেছে, যা ২০২০ সালের পর সবচেয়ে খারাপ রেকর্ড।
এই পতনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি কোল ইন্ডিয়া (Coal India) — দেশটির মোট কয়লা উৎপাদনের তিন-চতুর্থাংশই এই সংস্থা করে। সেপ্টেম্বর শেষে ত্রৈমাসিকে কোম্পানির লাভ পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে। অক্টোবর মাসে তাদের উৎপাদন প্রায় ১০% এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ ৬% কমেছে।
পুনর্নবীকরণযোগ্য খাতে উল্টো চিত্র:
অন্যদিকে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন অক্টোবরে ৩০.২% বেড়ে ১৯.৭৫ বিলিয়ন kWh হয়েছে, যা বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী বৃদ্ধি। সৌর ও বায়ু শক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিই এর পেছনের মূল কারণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অক্টোবরে ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পতন শুধু আবহাওয়াগত প্রভাব নয়—এটি শিল্প কার্যক্রম ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতি মন্থর হওয়ার সংকেতও দিচ্ছে। তবুও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উত্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, জ্বালানি রূপান্তরের পথে দেশটি ধীরে ধীরে এগোচ্ছে।