বাণিজ্য উত্তেজনা কমে আসা ও জাপানে নতুন নেতৃত্ব আসার আশায় মঙ্গলবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় উত্থান দেখা গেছে। আসন্ন ট্রাম্প-শি বৈঠক ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরায় আঞ্চলিক বাজারগুলো চাঙ্গা হয়েছে।
বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নতির সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা বাড়িয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সানায়ে তাকাইচির নির্বাচিত হওয়া বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেন, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে “ন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি” সম্পাদনের আশা করছেন এবং তাইওয়ান ইস্যুতে সংঘাতের আশঙ্কা কমিয়ে দেখছেন। ট্রাম্প ও শি আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি অর্থনৈতিক সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
এই সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ জাগায়। এমএসসিআই-এর এশিয়া-প্যাসিফিক শেয়ার সূচক (জাপান ব্যতীত) ৪ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে ০.৯৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। সাংহাই কম্পোজিট সূচক ০.২% এবং হংকংয়ের হ্যাং সেন সূচক ১% বেড়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজারও শক্তিশালী অবস্থান দেখিয়েছে, বিশেষ করে বিরল ধাতু ও খনিজ খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষর করায় এসব শেয়ারে চাহিদা বেড়েছে। অন্যদিকে, জাপানের নিক্কেই সূচক ঐতিহাসিকভাবে ৫০,০০০ পয়েন্ট স্পর্শের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে—যা তাকাইচি নেতৃত্বে বাজারের আস্থা প্রতিফলিত করছে। সংসদীয় ভোটে তাকাইচির প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিশ্চিত হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু আঞ্চলিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের খবর ও দীর্ঘ সরকারি শাটডাউনের কারণে বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বিনিয়োগকারীরা এবার “বাই দ্য ডিপ” কৌশলে সেই ধাক্কা পেরিয়ে গেছেন। তারা বড় করপোরেট কোম্পানির আসন্ন আয়-প্রকাশ ও বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমনের দিকে নজর দিচ্ছেন।
পেপারস্টোনের গবেষণা প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, “বাজার উদ্বেগের দেয়াল অনায়াসে টপকেছে—নতুন মূলধন বাজারে প্রাণসঞ্চার করছে।” তিনি আরও বলেন, ফেডারেল রিজার্ভ আগামী দুই বৈঠকে সুদের হার কমাতে পারে এমন প্রত্যাশা এবং হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হাসেটের মন্তব্য—যে সরকারি শাটডাউন শিগগিরই শেষ হবে—বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
এই ইতিবাচক পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান সূচকই সোমবার বড় উত্থান নিয়ে বন্ধ হয়েছে। বিশেষ করে চিপ সেক্টরের সূচক (SOX) নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে।
জেপি মরগ্যানের এশিয়া ইকুইটি কৌশলবিদ মিক্সো দাস বলেন, “আমরা বৈশ্বিক ইকুইটি বাজার নিয়ে আশাবাদী। নীতিগত সহজীকরণ এখন বড় চালিকাশক্তি, অর্থনীতি এখনও মন্দা থেকে অনেক দূরে।”
বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের কোম্পানিগুলোর আয় গত বছরের তুলনায় ৯.৩% বাড়বে, যা অক্টোবরের শুরুতে ৮.৮% বৃদ্ধির পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি।