বরগুনার পেশেন্ট কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট ও বিভ্রান্তিকর চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এক ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বরগুনা পৌরসভার কলেজ ব্রাঞ্চ রোড এলাকার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান মাসুম তালুকদার (৬৫) গত ২৪ সেপ্টেম্বর তার বড় মেয়ে মোমেনা আক্তার এশাকে (৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা) জ্বরের কারণে পেশেন্ট কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়। পরে হাসপাতাল থেকে দেওয়া রিপোর্টে জানানো হয়, তার মেয়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত এবং দ্রুত সিজার অপারেশনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
রিপোর্টের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ হলে মিজানুর রহমান একই দিন মেয়েকে ঢাকার উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষায় দেখা যায়, রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত নন। এতে প্রমাণ হয় যে পেশেন্ট কেয়ার হাসপাতালের রিপোর্ট ছিল ভুল ও বিভ্রান্তিকর।
অভিযোগে হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নুরছালী, ডা. নাজমা এবং ম্যানেজার চিন্ময়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, আত্মীয়স্বজনের পরামর্শে কিছুটা বিলম্বে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তারা।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে পেশেন্ট কেয়ার হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি মহল আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।”
ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান বলেন, “যে হয়রানির শিকার হয়েছি, তা যেন অন্য কোনো পরিবারকে ভোগ করতে না হয়। প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মো. সালেহ মাহমুদ সুমন শরীফ বলেন, “অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, “ভুয়া রিপোর্টের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়ম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।”