দীর্ঘ যুদ্ধ পরবর্তীতে শীঘ্রই দেশে ফিরছেন লাখ লাখ রুশ সেনা। বিশ্লেষকদের মতে, আফগান যুদ্ধ বা চেচনিয়া অভিযানের চেয়ে অনেক বড় এই প্রত্যাবর্তন সামাজিক চাপ, মানসিক স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান তিন ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, যদিও ১৯৯০-এর দশকের মতো পূর্ণ-মাত্রার অরাজকতার আশঙ্কা কম।
রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ইউক্রেন অভিযানে নিয়োজিত সেনার সংখ্যা প্রায় সাত লাখ; এর মধ্যে শুধু সাময়িক চুক্তিভিত্তিক (মোবিলাইজড) সেনাই ৩.৫ লাখ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তাদের অধিকাংশকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
রাশিয়ার সাবেক উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রে নিকোলায়েভ বলেন, “এই সংখ্যা আফগান যুদ্ধের (১০-১৫ হাজার) চেয়ে ৪০-গুণ বড়। আমরা যদি পুনর্বাসন, বাসস্থান ও চাকরির পরিকল্পনা না করি, সমাজে বিস্ফোরণ হতে পারে।”
সামরিক বিশ্লেষক সংস্থা ‘কাস্ট’-এর জরিপ অনুযায়ী, ফেরত সেনাদের ৩০ শতাংশই যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিক চাপ (PTSD) লক্ষণ দেখাচ্ছেন; ১৯৯০-এর দশকে চেচনিয়া থেকে ফেরা সেনাদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ১৫ শতাংশ। দেশজুড়ে মাত্র ১২টি সামরিক হাসপাতালে পূর্ণ-ব্যবস্থা থাকায় অনেকেই বেসামরিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভর করতে হবে।
ক্রেমলিন ইতিমধ্যে তিনটি পদক্ষেপ নিয়েছে:
১) ২০২৫-২৭ সালের ফেডারেল বাজেটে ৫০ হাজার কোটি রুবল (≈ ৫.৫ বিলিয়ন ডলার) ‘ভেটেরান্স ফান্ড’ বরাদ্দ;
২) রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে অগ্রাধিকার কোটা ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ;
৩) আঞ্চলিক গভর্নরদের ‘১০০ দিনের পুনর্বাসন পরিকল্পনা’ জমা দেওয়ার নির্দেশ।
তবে স্থানীয় সরকারের তথ্য অনুযায়্য, গত বছর ছাড়পত্র পাওয়া ৭০ হাজার সেনার মধ্যে ২২ শতাংশ এখনও স্থায়ী বাসস্থান পাননি; সাইবেরিয়া ও উত্তর ককেশাসে এই হার ৪০ শতাংশের বেশি।
রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে কার্নেগি ইনস্টিটিউটের পাভেল লুজিন বলেন, “পুতিনের জনপ্রিয়তা এখনো উচ্চ, কিন্তু অর্থনৈতিক সংকোচন ও সামাজিক অসন্তোষ মিলে ১৯৯৩-এর সংসদ-বিরোধ বা ১৯৯৮-এর রুবল-ধসের পুনরাবৃত্তি সম্ভব নয়, তবে সীমিত বিক্ষোভ ও অপরাধ-স্ফোরণ অস্বাভাবিক নয়।”
সেনা-ফেরতদের একটি অংশ ‘ভেটেরান্স ইউনিয়ন’ গঠন করে বিক্ষোভের হুমকি দিয়েছে, যদি প্রতিশ্রুত সুবিধা ছয় মাসের মধ্যে না মেলে। ক্রেমলিন সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসন সেই সংগঠনকে ‘বিদেশী অর্থে প্রভাবিত’ বলে নজরদারি করছে।
সামগ্রিকভাবে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন—রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা ১৯৯০-এর তুলনায় অনেক ভালো, কিন্তু সেনা-সমাজের পুনর্বাসনে সমন্বিত ও স্বচ্ছ পরিকল্পনা না থাকলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।