অলোপ্রিয় বাজেট প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে জাতীয় পরিষদে অনাস্থার মুখে পড়ে ক্ষমতাচ্যুত হলেন ফ্রান্সের কেন্দ্র-ডান প্রধানমন্ত্রী ফ্রঁসোয়া বেহরু। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁকে এখন দুই বছরের মধ্যে পঞ্চমবারের মতো নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে হবে; প্যারিসসহ বড় শহরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বাম ও ট্রেড-ইউনিয়ন জোট।
সোমবার ভোরে বেহরু সরকারের পতন হয় ১৯৭ ভোটের বিপক্ষে ২৮৮ ভোট পড়ে—মাত্র ৯ ভোটের ব্যবধানে অনাস্থা প্রস্তাব পাস হয়। কারণ ছিল সরকারের ২০২৬ সালের বাজেটে ৬০ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয়ের পরিকল্পনা, যাতে পেনশন বয়স ৬২ থেকে ৬৪ বছরে তুলে ধরা এবং সামাজিক ভাতা কমানোর প্রস্তাব ছিল। বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলঁশ বলেন, “এই বাজেট জনগণের পকেট কাটা ছাড়া আর কিছু নয়; আমরা রাস্তায় থাকব।”
ম্যাক্রঁর কার্যাল্য এলিসি প্যালেস জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে “বিশ্বাসযোগ্য সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা গঠনে সক্ষম” নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করবেন। কিন্তু জাতীয় পরিষদে কোনো দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সম্ভাব্য বিকল্প সীমিত।
কেন্দ্র-ডান ‘রিপাবলিক অন দ্য মুভ’-এর পার্লামেন্টারি নেতা মায়া অ্যাটাল—তবে তিনি বাজেট সংস্কারে নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী এডুয়ার্দ ফিলিপ—ম্যাক্রঁর ঘনিষ্ঠ, কিন্তু ২০২৭ প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের দৌড়ে নিজের অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে চান।
টেকনোক্র্যাট ও সাবেক ইইউ কমিশনার থিয়েরি ব্রেটন—বাম ও ডান দুই পক্ষেই সমালোচিত।
সিএফডিটি ও এফএসইউ ট্রেড-ইউনিয়ন বৃহস্পতিবার “জাতীয় বিক্ষোভ দিবস” ঘোষণা করেছে; পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্যারিসের প্লেস দ্য la রিপাবলিক ও অন্তত ১৫টি শহরে সমাবেশের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। ২০২৩-এর পেনশন-বিরোধী আন্দোলনে দেশব্যাপী যাত্রবাহী ধর্মঘট ও বিক্ষোভ হয়েছিল; সেই অভিজ্ঞতার আলোকে সরকার এবার ৭ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে।
ফ্রান্সের ১০-বছরের বন্ড ইয়েল্ড ৩.১৫ শতাংশে উঠে গেছে—গত আট মাসের সর্বোচ্চ। ইউরো এখন ১.০৮ ডলারে, বিনিয়োগকারীরা অস্থিরতা এড়াতে ইউরো-অঞ্চলের “সেফ হ্যাভেন” জার্মান বন্ডের দিকে ঝুঁকছেন।
পলিটিক্যাল রিস্ক কনসালটিং-এর ট্যাটিয়ানা কাসানোভা বলেন, “ম্যাক্রঁ যদি আবারও টেকনোক্র্যাট নিয়োগ দেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হবে; আর বাম-ডান জোট যদি দীর্ঘমেয়াদী ‘সহাবস্থান’ চায়, তাহলে বাজেট সংস্কার থেকে পিছু হটতে হবে—যা বাজেট ঘাটতি ৬ শতাংশের নিচে রাখার লক্ষ্যকে হুমকির মুখে ফেলবে।”
সংবিধান অনুযায়ী, যদি ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সরকার গঠন না হয়, রাষ্ট্রপতিকে পুনরায় সংসদ ভেঙে নির্বাচন ডাকতে হবে—২০২৭ প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের এক বছর আগে এমন পদক্ষেপ ম্যাক্রঁর জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।