চলতি বছরের দুর্গাপূজা (২৮ সেপ্টেম্বর) উপলক্ষে ভারতে এক হাজার ২০০ টন ইলিশ মাছ রপ্তানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আগ্রহী রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন আহ্বান করা হয়েছে; প্রতি কেজির ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২.৫ মার্কিন ডলার।
২০১৫ সালের জাতীয় রপ্তানি নীতিতে শর্তসাপেক্ষে ইলিশ রপ্তানির সুযোগ পাওয়ার পর থেকে ছয় বছর ধরে পূজা মৌসুমে ভারতে বিশেষ কোটায় এই মাছ পাঠানো হচ্ছে। চলতি বছরও একই প্রক্রিয়ায় ১,২০০ মেট্রিক টন রপ্তানির জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। আবেদনের সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর-ভ্যাট সার্টিফিকেট, মৎস্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স ও ক্রয়-চুক্তিপত্র জমা দিতে হবে। ইতোমধ্যে যারা আলাদাভাবে আবেদন করেছেন, তাদেরও নতুন করে আবেদন করতে বলা হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি ইলিশের চাহিদা সর্বাধিক। তবে বাস্তবে রপ্তানিকৃত পরিমাণ অনুমোদিত কোটার চেয়ে কম যায়। গত বছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৭৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩,৯৫০ টন রপ্তানির অনুমতি দিলেও বেনাপোল ও আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পাঠানো হয় মাত্র ৮০২ টন। এর প্রধান কারণ হিসেবে দেশীয় বাজারে উচ্চ দাম, পরিবহন-জটিলতা ও ব্যাংক-পেমেন্ট ঝুঁকি চিহ্নিত করেছেন ব্যবসায়ীরা।
২০১৯ (প্রথম অনুমোদন): ৪৭৬ টন, আয় ৩.৯ মিলিয়ন ডলার (প্রতি কেজি ৬–১০ ডলার)
২০২০-২১: ১,৬৯৯ টন, আয় ১৬.৪ মিলিয়ন ডলার
২০২১-২২: ১,২৩০ টন, আয় ১২.৪ মিলিয়ন ডলার
২০২২-২৩: ১,৩৯১ টন, আয় ১৩.৮ মিলিয়ন ডলার
২০২৩-২৪: ৮০২ টন, আয় ৮.০ মিলিয়ন ডলার
এ হিসাবে গত পাঁচ বছরে গড়ে মোট উৎপাদনের মাত্র ০.২৯ শতাংশ ইলিশ রপ্তানি হয়েছে, যা দেশীয় বাজার সরবরাহে তেমন প্রভাব ফেলে না বলে দাবি মৎস্য অধিদপ্তরের। চলতি বছর ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ১২.৫ ডলার (প্রায় ১,৪০০ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে; দেশীয় বাজারে এক কেজি ইলিশের দাম ৮০০–১,২০০ টাকা পর্যন্ত থাকায় ব্যবসায়ীরা লাভের আশায় বিদেশে বিক্রি করতে উৎসাহী।
মৎস্য ও বাণিজ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত রপ্তানিকারক তালিকা প্রকাশ করা হবে; পূজা শুরুর আগেই চালান পাঠানোর লক্ষ্যে ২০–২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেনাপোল ও আখাউড়া দিয়ে ট্রাক ছাড়া হবে। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও কোল্ড-চেইন সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।