নতুন রাজনৈতিক অভিমুখ নির্ধারণে এনসিপি (নতুন জাতীয়তা পার্টি) তাদের খসড়া গঠনতন্ত্রে ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায়ের উপর ভিত্তি করে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বনির্ভর ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যের কথা ঘোষণা করেছে।
খসড়া গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সাল ছিল রাজনৈতিক আত্মপ্রতিষ্ঠার সূচনা, ১৯৭১ স্বাধীনতার চূড়ান্ত রূপ আর ২০২৪ বর্তমান সময়ের নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে। দলটির দাবি, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ—গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার এখনও পূর্ণ বাস্তবায়ন পায়নি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান শুধুমাত্র সরকারের পরিবর্তন ছিল না, বরং দুর্নীতি, গুম ও মতপ্রকাশ দমনের ওপর নির্মিত ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্তির জন্য গণমানুষ জীবন দিয়েছিল।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও দক্ষ নাগরিকভিত্তিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়তে চাই, যেখানে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।”
খসড়া গঠনতন্ত্রে দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শীর্ষ নেতাদের তিন মেয়াদে সীমাবদ্ধ রাখার পাশাপাশি, প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের প্রধান নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে।
‘নতুন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, যেখানে বাকস্বাধীনতা, ভোটাধিকার ও সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকবে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য দূর করে সবাইকে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের মৌলিক অধিকার প্রদান করা হবে।
এনসিপি নারীদের, শিশুদের, কৃষক, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিশেষ সুরক্ষা ও উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিক্ষাব্যবস্থায় উদ্ভাবনী সংস্কার, কৃষি ও প্রযুক্তি ভিত্তিক টেকসই ও রপ্তানিমুখী অর্থনীতি গঠন তাদের পরিকল্পনার অন্যতম অঙ্গ।
খসড়া অনুযায়ী, দল জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হলে সরকার ও দলের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর দলীয় প্রধান পদ ছাড়তে হবে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পরিষদ হবে নির্বাচিত এবং এখানে তদন্ত ও জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকবে।
এনসিপি ওয়েস্টমিনস্টার মডেলের ওপর ভিত্তি করে একটি পরামর্শক প্যানেল ও ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করবে, যারা নীতিনির্মাণ ও শাসন ব্যবস্থার বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করবে।
২২ জুন নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের আবেদনের শেষ তারিখের আগে দলের সাধারণ সভায় খসড়া গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।