দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছের মোকাম বরগুনার পাথরঘাটায় এবং বরিশালের পোর্ট রোডে ইলিশের আড়ালে চলছে এক অস্বাভাবিক বাণিজ্য। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, এখানে ইলিশের রপ্তানি মূল্য কিভাবে ক্রমাগত বাজারদরের চেয়ে কমে যাচ্ছে, সেই প্রশ্নে উঠে এসেছে মাফিয়া চক্রের জাল।
মঙ্গলবার একদিনে বরিশালের পোর্ট রোডে পাইকারি বাজারে ৬০০ মণ ইলিশের বেচাকেনা হয়েছে, যেখানে ১ কেজি ২০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশের প্রতি কেজি মূল্য ছিল ১,৯৫৮ টাকা। এদিকে, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বাজার থেকে এই মাছ কিনলেও তারা তা রপ্তানির জন্য সরকার নির্ধারিত ১০ ডলার (১,২০০ টাকা) দামে ইলিশ পাঠাচ্ছেন। এমনকি নানা খরচ বাদেও এই দরে মাছ পাঠিয়ে কীভাবে তারা লাভবান হচ্ছেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রপ্তানিকারকরা মূলত এলসি সাইজের বড় ইলিশ কেনেন, ছোট ইলিশ কিনে তারা লোকসান মেটানোর চেষ্টা করছেন। তবে বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ থেকে কলকাতা পর্যন্ত পৌঁছানোর আগে মাছের দাম বেড়ে যায়, যা একাধিক প্রশ্ন তৈরি করে। ইলিশের আড়ালে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কৌশলগত জাল এবং হুন্ডিতে লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে সহযোগিতা করে মাফিয়া চক্র ইলিশের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তারা বছরের পর বছর ধরে দাম নির্ধারণ করে রেখেছে, যার ফলে জেলেরা অতি সস্তায় ইলিশ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এমতাবস্থায়, সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারায় সমস্যা আরও বেড়ে যাচ্ছে।
পোর্ট রোডের ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত করেছেন, যদিও কাগজে সঠিক মূল্যে রপ্তানি দেখানো হচ্ছে, কিন্তু ভারতের বাজারে বিক্রি হচ্ছে সে দেশের বাজারদরে। ফলে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সত্যিকার অর্থে লোকসান ভোগ করছেন। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে।
এদিকে, মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ইলিশ রপ্তানি সংক্রান্ত কাগজপত্র কয়েক বছর আগের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে, যা বর্তমান বাজারের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। বিভিন্ন দফতর এ বিষয়ে কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, হুন্ডির মাধ্যমে অধিক দামের টাকার লেনদেন হয় এবং এটি অবৈধ পন্থায় রপ্তানি করা হয়। সুতরাং, মাছের বাজারের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।